শেষ জামানায় কুরআনের আমল থাকবে না:

 

শেষ জামানায় কুরআনের আমল থাকবে না:

রাসূল (সা.) ভবিষ্যৎবাণী করেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে এমন একটা সময় আসবে যখন আল -কুরআনের তিলাওয়াত থাকবে কিন্তু কুরআনের আমল সমাজের মানুষের মধ্যে থাকবে না। বর্তমান বিশে^র দিকে তাকালে মনে হয় সেই সময় চলে এসেছে। এখন সারা পৃথিবীতে কুরআনের তিলাওয়াত আছে কিন্তু কুরআনের আমল নেই, কুরআনের হুকুম সমাজে বাস্তবায়ন নেই। এ সম্পর্কে আল-হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى مِنَ الْإِسْلَامِ إِلَّا اسْمُهُ، وَلَا يَبْقَى مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا رَسْمُهُ، مَسَاجِدُهُمْ عَامِرَةٌ وَهِيَ خَرَابٌ مِنَ الْهُدَى، عُلَمَاؤُهُمْ شَرُّ مَنْ تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ مَنْ عِنْدَهُمْ تَخْرُجُ الْفِتْنَةُ وَفِيهِمْ تَعُودُ "

“হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ভবীষ্যতে মানুষের সামনে এমন একটা যুগ আসবে যখন নাম ব্যতিরেকে ইসলামের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, আল -কুরআনের আক্ষরিক তিলাওয়াত ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। তাদের মসজিদ গুলো হবে বাহ্যিক দিক দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হবে হেদায়াত শূণ্য। আর তাদের আলেমরা হবে আকাশের নিচে জমিনের উপরে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। কারণ তাদের মধ্য থেকে ইসলাম/দ্বীন সম্পর্কে ফিতনা প্রকাশ পাবে। অতপর সেই ফিতনা তাদের দিকেই প্রত্যাবতন করবে।” (বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান অধ্যায়)

বর্তমান সময়ের মুসলামানগণ এই আল -কুরআরকে তিলাওয়াত সর্বস্ব কিতাবে পরিণত করেছি। এ কথার দ্বারা এটা মনে করার সুযোগ নেই যে, কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে না। বরং কুরআন তিলাওয়াত করলে আপনি অবশ্যই প্রতি হরফে ১০টি করে নেকি পাবেন। এ সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন,  مَنْ قَرَأَ الْقُرْآَنَ فَلَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ “যে ব্যক্তি আল -কুরআন তিলাওয়াত করবে প্রতিটি হরফের তার জন্য রয়েছে ১০টি করে সওয়াব।” (আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন)

তবে কুরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সে অনুযায়ী নিজের জীবন পরিচালনা করা, পরিবার ও সমাজ পরিচালনা করাই হচ্ছে মুল উদ্দেশ্য। যদি আমি এই উদ্দেশ্য ভূলে শুধু তিলাওয়াতে ব্যস্ত থাকি অথচ আল -কুরআন সমাজে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা না করি তাহলে এটা তিলাওয়াত সর্বস্ব হিসেবে গণ্য হবে।

পরিশেষে বলা যায়, আল -কুরআনের হক হচ্ছে তাকে তিলাওয়াত করতে হবে, জানতে হবে, বুঝতে হবে, বাস্তব জীবনে কুরআনের বিধান মেনে চলতে হবে। কারণ এই আল -কুরআনই কিয়ামতের দিন আপনার-আমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। এ সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, الْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ “আল -কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে।” (আহকামুশ-শরীয়াহ) তাই আসুন আমরা সবাই আল -কুরআন শিক্ষা করি এবং কুরআন অনুযয়ী নিজের জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করি।

Comments

Popular posts from this blog

আল -কুরআনের মধ্যে সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে:

কুরআনের একটি আয়াত হলেও সেটা মানুষের কাছে পৌছে দাও

কুরআন অধ্যয়নকারীকে আল্লাহ স্বরণ করেন: